IMG_0145

আমার CCCL 2020

প্রথমেই বলে নেয়া ভালো গতবছর মার্চে আমি আমার শেষ ১০ কিমি দৌড়েছি। এবার নভেম্বর থেকে ঢাকা হাফ ম্যরাথনের জন্য প্রিপারেশন নিচ্ছিলাম। কিন্তু যেদিন রেজিস্ট্রেশন সেই রাতে ভুলে গিয়েছিলাম কখন রাত ৮ টা বেজে গেছে, শোয়েব ভাই এর সাথে অন্য কারণে ফোন দিলাম, বলল আগে রেজিস্ট্রেশন করেন, শুরু করতে করতেই স্লট ফুল !

কি একটা অবস্থা

যাই হোক, একটা মিস তো আরেকটা চেষ্টাতো করতে হবে, আগেই রাজীব ভাইয়াকে বলে রেখেছিলাম একটু জানাতে। বরাবরই মানুষটা খুব ভালো। মনে করিয়ে দিলো। তারপর প্রিপারেশন শুরু। কি আর প্রিপারেশন, ৩ কিমি দিতেই অবস্থা খারাপ। কোনোরকমে ৫ কিমি এর প্রিপারেশন নিয়ে আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে কিট কালেকশন করলাম

রেস শুরুর আগের রাতে আগে আগেই ঘুম, ভোর ৪টায় উঠলাম, ফ্রেশ হলাম, খেজুর নিলাম। রওনা দিলাম ৪:৪৫ এ । পৌঁছে দেখি ব্যপক প্রিপারেশন সবার। স্ট্রেচিং চলছে ধুমসে। শুরুর আগে দেখা হল লেজেন্ড তুষার ভাই এর সাথে

ওকে, অল প্যাকড। বেলুন উড়াইলো, কিন্তু একি, আটকে গেলো তারের সাথে, যাক মজা নিয়ে শুরু। কোনও ঝামেলা ছাড়াই ৪ কিমি শেষ। এর পর আস্তে আস্তে শরীর বাবাজি বলা শুরু করলো কি রে তোর ৫ কিমি কিন্তু সামনে শেষ, পারবি ? পারবোনা মানে ? ২ জন আপাকে টার্গেট করলাম যাদের পেস দেখলেই বোঝা যাচ্ছে উনারা ৮ কিমি/ঘণ্টা ধরে ১ ঘণ্টা ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে শেষ করার টার্গেটে আছে। মনে মনে সেট করলাম আপারা পারলে আমিতো পারবোই ইনশাল্লাহ।

মাঝে মধ্যে তো আপাদের সাথে থাকাটাও ডিফিকাল্ট হয়ে যাচ্ছিল, উনারা দুরে গিয়ে হাঁটলেই আমি দৌড়ে উনাদের ক্যাচ আপ করতাম, যাই হোক , এইভাবে ৯ কিমি শেষ, তখন ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট, মানে আরও ২০ মিনিট আছে

এর পর লাস্ট ওয়াটার স্টেশনে দাঁড়িয়ে আরাম করে পানি খেয়ে একটা কলাও খেয়ে দিলাম, এর পর দেখি ৩ মিনিট শেষ, পরের ৬০০ মিটার হাঁটলাম, তারপর দৌড়, শেষ করলাম ১ ঘণ্টা ২৩ মিনিটে। হাসেন, কোনও ব্যাপার না 😀

এইবারের ১০কিমি এ আমার টার্গেট ই ছিল ১:২০ এ শেষ করার, প্রিপারেশনের কিছুই নিতে পারি নাই। ৩ মিনিট বেশী লাগছে কারণ পানি খাইলাম আর কিছুক্ষণ আড্ডা দিলাম পানির ওইখানের এক ভাই এর সাথে। শেষ তো করছি 😀

আগামিবার ইনশাল্লাহ ১ ঘণ্টার আগে শেষ করবো, দোয়াপ্রার্থী

হু ঠিক বলছেন, ১ ঘণ্টা ২৩ মিনিটে শেষ করার এই গল্প এতক্ষণ পড়িয়া সময় নষ্ট করা আপনার একদমই ঠিক হয় নাই

আজকে এই পর্যন্তই
ঢাকা, মার্চ ১৪ ‘২০২০

DCIM100MEDIADJI_0025.JPG

বগুড়ায় ১ দিনের ঝটিকা সফর

লাল মরিচের ঈগলের চোখে ছবি দেখে অনেকদিন থেকেই ইচ্ছে ছিল বগুড়া যাব, কিন্তু যাওয়া হচ্ছিলনা

এবার মহসিন রেজা ভাইয়া বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে পোস্টিং এ যাওয়ার পর ওখানে যাওয়ার একটা কারণ পাওয়া গেলো, মনে মনে ভাবতে ভাবতেই আজাদ ভাইয়া একদিন ফোন করে বলল রেজার ওখানে যাব, যাবি ? এই অফার কি আর ছাড়া যায় ?

২১ শে ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার সকালে ভোর ৫ টায় রিপোর্ট করার কথা, স্বভাবতই আমি ১৫ মিনিট লেট। আজাদ ভাইয়ার আর নাহার আপুর সাথে রওনা করলাম বগুড়ার উদ্দেশ্যে। ঢাকা থেকে বগুড়া খুব একটা দূরত্ব না, শুধুমাত্র টাঙ্গাইলের এলেঙ্গাতে জ্যাম লাগার সমূহ সম্ভাবনা আছে আর যদি একবার পরেছেন তো ২/৩ ঘণ্টা শেষ। আমরাও পরেছিলাম জ্যাম এ, ১ ঘণ্টা মতো লেগেছিল পার হতে। যাই হোক বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট এ ১০:৩০ এর দিকে পৌছালাম, ফ্রেশ হয়েই বেরিয়ে পরলাম, রেজা ভাইয়া আবার সাথে দুপুরের খাবার নিয়ে নিলো।

প্রথমে গেলাম সারিয়াকান্দির প্রেম যমুনা ঘাট এ, লাল মরিচের খোঁজে। পেলাম না। লোকাল লোকজনকে জিজ্ঞেস করলাম, বলল এখনো মরিচ পাকেনি কিন্তু কিছু পাবেন কালীঘাট এ। যেটা পেছনে ফেলে এসেছি। গাড়ি ঘুরিয়ে চলে গেলাম, হ্যাঁ এবার দেখা মিলল লাল মরিচের মহাসমারোহ এর সাথে। তুলে ফেললাম অনেক ছবি।

এবার নৌকা ভাড়া করে নদীতে ঘুরতে বের হলাম, ঘণ্টায় ৩০০ টাকা, মাঝ নদীতে লাঞ্চ সেরে নিলাম। নৌকা নিয়েছিলাম শ্যাওলা ভরা পানিতে নৌকার ছবি তুলতে, কিন্তু তেমন দেখা মিলল না। যাক নৌকা থেকে নেমে ৩ কিমি চালিয়ে এক গ্রাম এ পাওয়া গেলো আরও কিছু শুকনা মরিচের চাতাল। এই দিনের জন্য শেষ।

পরদিন সকালে রেজা ভাইয়ার ওখানে জাহিদা ভাবীর করা অসাধারণ নাস্তা শেষ করে বেরিয়ে পরলাম ঢাকার উদ্দেশ্যে। হাতিকুমরুল থেকে বামে গেলে ঢাকার রাস্তা, আর সোজা গেলে সোনতলা নাম এর এক জায়গা আছে যেখানে এক ব্রিজের উপর থেকে আমাদের কাঙ্ক্ষিত শ্যাওলা ভরা খাল পেয়ে গেলাম, ব্যাস নৌকা ভাড়া করে বেশ ছবি তোলা হল। ছবি তুলে আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা, মাঝে এরিস্টক্র্যাটে লাঞ্চ, ব্যাস ব্যাক টু ঢাকা।

বিঃদ্রঃ ছবি তোলার লোকেশন দিয়ে অশেষ উপকার করেছেন সাবিনা আক্তার অশেষ কৃতজ্ঞতা আপু

কিভাবে যাবেনঃ ঢাকা থেকে বগুড়া – বাসে, ওখান থেকে সিএনজি নিয়ে সারিয়াকান্দি। আর হাতিকুমরুল থেকে বাসে সোনতলা বাজার, বাজার থেকে সিএনজি/ব্যটারি রিক্সায় সোনতলা ব্রিজ

আজ এ পর্যন্তই
২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০

IMG_2821-v copy 2

Berannye (বেরান্নো) Lakeshore cafe – তে একদিন

রাঙ্গামাটি বরাবরই আমার প্রতিবছরের বাকেট লিস্টে থাকে। কম করে হলেও ২ বার এক বছরে। এর হাজারটা কারণ আছে। তার মধ্যে যদি একটা বলি তাহলে বলতেই হয় আমার ঢাকার বাইরের প্রথম ট্রিপ ছিল রাঙ্গামাটিতে, ২০০৯ এ।

বরাবরের মত গত বছরও গিয়েছিলাম, তবে যাওয়ার আগে রিজয়কে বলে গিয়েছিলাম। ওর বাড়ি আবার এখানেই। ওর সুবাদে জানতে পারলাম ওর এক মামার একটা রেস্টুরেন্ট আছে এখানে, নাম বেরান্নো। পুরো নাম Berannye Lakeshore Cafe. তো নিজেই ড্রাইভ করে যাওয়ার অভ্যাস আর বেশী দেরী হয়ে গিয়েছিলো রাতের জ্যাম এ, তাই পৌঁছাতে দেরী হয়ে গিয়েছিলো। ভাবলাম পরদিন যাই, কি ভেবে ওইদিন বিকেলেই গেলাম। গিয়েই অবাক হয়ে গিয়েছিলাম Berannye ক্যাফে এর লোকেশন দেখে। অতিশ দ্যা, কয়জন মালিকের মধ্যে উনিও একজন। খুব ভালো একজন মানুষ, প্রথম দিন থেকেই আতিথেয়তার কোনও কমতি ছিলনা। লোকাল কুজিন থেকে শুরু করে চিকেন ব্যাম্বুশুট কি না মজার খাবার Berannye – এ।

অনেক আড্ডা দিলাম, তবে ইলেক্ট্রিসিটি না থাকায় রাতের খাবার বা থাকার কোনও ব্যাবস্থা নাই। Berannye তে যারা যাবেন আগের দিন বুকিং দিয়ে যাবেন, খাবার থেকে শুরু করে লোকেশন আর আড্ডা, টাকা উশুল। ও আচ্ছা কায়াক করার ইচ্ছে থাকলে সেটাও এখানে করার ব্যবস্থা আছে

কিভাবে যাবেনঃ ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটি – বাসে, ওখান থেকে এই ক্যাফে এর নাম বললেই সিএনজি নিয়ে যাবে আপনাকে। দূরত্ব খুব বেশী হলে ২০ কিমি, তবে পাহাড়ি রাস্তার ড্রাইভটা চরম

লোকেশনঃ *****
খাবারঃ *****
পরিবেশঃ *****

তাদের বুকিং নাম্বার: ০১৭৩২৩৩২৮১৯, ০১৮৫৬৯৫৭০০২
বুকিং এর সময়: সকাল ৯ টা – সন্ধ্যা ৭ টা
ফেসবুকঃ https://www.facebook.com/Berannye/

অন্য রেস্টুরেন্ট রিভিউ নিয়ে খুব জলদি আসবো
ভালো থাকবেন

আজ এ পর্যন্তই
৮ই এপ্রিল ২০১৯